Best Blog 24 https://www.bestblog24.com/2021/05/affliate-marketing.html

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কিছু মৌলিক বিষয়বস্তু

বর্তমানে টেকনোলজি-এর যুগে ”অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং”-এ কথাটি শুনে থাকি। এমনও শুনি অনেকেই নাকি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করেন। হ্যাঁ কিছুটা গল্পের মত মনে হলেও সত্যি। 

আজকে আমি আপনাদের সাথে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কিছূ মৌলিক বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করব।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কিছু মৌলিক বিষয়বস্তু

আরও পড়ুনঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অনলাইনে এমন হাজার হাজার কোম্পানি আছে যারা অ্যাফিলিয়েট পার্টনার নিয়ে থাকে। আপনি সেই সমস্ত কোম্পানিগুলোতে একজন অ্যাফিলিয়েট পার্টনার হিসেবে জয়েন করতে পারেন এবং সেই কোম্পানিগুলোর প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস আপনি প্রমোট করে সেল করার মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট আর্নিং করতে পারেন। আপনার মাধ্যমে যখনই একটি প্রোডাক্ট সেল হবে তখন প্রত্যেকটি সেল থেকে আপনি একটি প্রফিট পাবেন যেটাকে বলা হয় এফিলিয়েট সেল অর্থাৎ আপনি কোন প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারেন না, আপনার কাছে কোন প্রোডাক্ট নাই কিন্তু অন্যান্য কোম্পানি আছে যাদের কাছে অনেক প্রোডাক্ট আছে এবং খুব ভালো মানের প্রোডাক্ট আছে যেগুলো মানুষ ট্রাস্ট করে এবং মানুষ অলরেডি কিনছে। এই প্রোডাক্ট গুলো কে আপনি আপনার অডিয়েন্সের কাছে সেল করে দিবেন এবং পার সেল আপনি একটা প্রফিট পাবেন। এটি অনলাইন জগতের খুব জনপ্রিয় একটি উপায় ক্যারিয়ার বিল্ড করার।অনলাইনে যতগুলো প্রফেশন আছে তার মধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং লাভজনক একটি পেশা।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ব্লগিং এর মধ্যে পার্থক্য কোথায় এবং কোনটা বেশি লাভজনক:

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে জানাতে গেলে কিন্তু ব্লগিং জিনিসটার কথা চলে আসে, ব্লগিং হচ্ছে, আপনার একটি ওয়েবসাইট আপনি ক্রিয়েট করবেন এবং সে ওয়েবসাইটে আপনি বিভিন্ন জিনিস নিয়ে লেখালেখি করবেন, যেকোন বিষয়,  আপনি কিন্তু অলরেডি বিভিন্ন ব্লগিং সাইট ভিজিট করেন বিভিন্ন বাংলা সাইটেও আপনি ভিজিট করেন বিভিন্ন বাংলা লেখা পড়েন। এই ওয়েবসাইট গুলো কিন্তু আসলে ব্লগিং সাইট। একেক জন একেক বিষয় নিয়ে লিখে থাকেন। ঠিক এভাবে আপনিও আপনার একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন এবং সেখানে আপনার যে বিষয়গুলো ভালো লাগে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারেন। যেমন আপনি হেলথ রিলেটেড বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন। সেটা হতে পারে হেলথ টিপস। আবার বিউটি টিপস নিয়ে আপনি লেখালেখি করতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন টেকনোলজি এর বিষয় সমূহ নিয়ে আপনি টিপস ট্রিক্স তুলে ধরতে পারেন। যে কোন বিষয় যা নিয়ে আপনি কম্ফোর্টেবল ফিল করেন তা নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে রিভিউ বা কনটেন্ট লেখালেখি করার মাধ্যমে আপনি ব্লগিং করতে পারেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে ব্লগিংয়ের ছোট্ট একটি অংশ। ব্লগিং হচ্ছে একটি কমপ্লিট সলিউশন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ব্লগিং বা কনটেন্ট রাইটিং করার মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন, গুগোল এডসেন্স এর মাধ্যমেও আপনি ইনকাম করতে পারবেন আবার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে স্পনসর্শিপ নেওয়ার মাধ্যমেও মার্কেটিং করতে পারবেন। আবার আপনি আপনার ওয়েবসাইট থেকে সেল করার মাধ্যমে আর্নিং করতে পারবেন। অর্থাৎ ব্লগিংয়ের মাল্টিপল রেভিনিউ সোর্স আছে। আর সেই মাল্টিপল রেভিনিউ সোর্স গুলোর মধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে একটি।

অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, কয়টি কনটেন্ট আমি আমার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করব? বা কত ওয়ার্ডের কনটেন্ট ওয়েবসাইটে পাবলিশ করব? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যেতে পারে, আপনি যতদিন ব্লগিং করবেন আপনাকে ততদিন কন্টাক্ট পাবলিশ করে যেতে হবে। কনটেন্ট পাবলিশ করার কোন লিমিট নেই। ১000ওয়ার্ড বা ২0000 ওয়ার্ড বা দশটা কন্টেন্ট বা বিশ টি কনটেন্ট। আপনি যতদিন ব্লগিং করবেন ততদিন আপনাকে প্রতিনিয়ত পাবলিশ করে যেতে হবে। কোনো কারণে যদি আপনার ওয়েবসাইট থেকে কেউ কোন প্রকার প্রোডাক্ট নাও কেনে তারপরও কিন্তু কোন সমস্যা নেই। আপনার ওয়েবসাইট থেকে আপনি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

একজন ভিজিটর যখন আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিট করবে তখন সে যদি কোন প্রোডাক্ট নাও কিনে আপনার ওয়েব সাইটটি ভিজিট করে এতেও আপনি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন অর্থাৎ ব্লগিং করলে আপনি শুধুমাত্র অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর উপর নির্ভরশীল না, আপনার আরো অনেকগুলো উপায় থাকবে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি দারুন একটি ক্যারিয়ার ডেভলপ করতে পারবেন। তাই আমি আপনাকে বলব  আপনি কনটেন্ট রাইটিং এবং ব্লগিং এর উপর সম্পূর্ণ মনোযোগ দিন এতে করে আপনার জন্য মাল্টিপল রেভিনিউ সোর্স ডেভলপ হয়ে যাবে। শুধুমাত্র এফিলিয়েট মার্কেটিং এর উপর আপনি মনোযোগ  দিবেন না, তাহলে আপনি শুধুমাত্র একটি আর্নিং সোর্সের সাথে কানেক্টেড থাকবেন। আর যখন আপনি ব্লগিং টিকে শিখে নিয়ে সঠিকভাবে করবেন তখন আপনি মাল্টিপল রেভিনিউ জেনারেট করতে পারবেন আপনার ওয়েব সাইট থেকে।

সবশেষে যা বলা যায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ব্লগিং এর মধ্যে একটি বড় পার্থক্য আছে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে জাস্ট একটি অংশ, কোন কোম্পানির প্রোডাক্ট সেল করে দিবেন অনলাইনে এবং তার বিনিময় আপনি প্রত্যেকটি সেল থেকে একটি প্রফিট পাবেন। আর ব্লগিং হচ্ছে আপনার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট, যেখানে বিভিন্ন টপিকস এর উপর কনটেন্ট রাইটিং করবেন এবং এসব কন্টেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন উপায়ে রেভিনিউ জেনারেট করতে পারবেন অনলাইনে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে ব্লগিং ক্যারিয়ারের একটিমাত্র আর্নিং সোর্স। এটা ছাড়াও আরো অনেকগুলো আর্নিং সোর্স আছে যেমন গুগল এডসেন্স,স্পনসর্শিপ ,ওয়েবসাইটস সেল করার পাশাপাশি আপনার নিজের প্রডাক্ট সার্ভিসও আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেল করতে পারবেন, আপনার ভিজিটর দের কাছে।

অনলাইনে কোন কোন মার্কেট প্লেসগুলো বেস্ট অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য


অনলাইনে লক্ষ লক্ষ কোম্পানি আছে যারা অ্যাফিলিয়েট পার্টনার নিয়ে থাকে কিন্তু সবগুলো মার্কেটপ্লেস আসলে বেস্ট না আপনার ব্লগিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য।আর এত এত মার্কেটপ্লেস নিয়ে কথা না বলেতে গেলেও আপনার পড়তেও অনেক সময় লাগবে এবং আপনি ধৈর্য হারা হয়ে পড়াটাই বন্ধ করে দিতে পারেন। তাই বেশি কথা না বলে জনপ্রিয় কিছু মার্কেটপ্লেস নিয়ে কথা বলা যাক, জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস গুলোর মধ্যে অ্যামাজন, আলী এক্সপ্রেস, থিমফরেস্ট অন্যতম। এই মার্কেটপ্লেস গুলো সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

অ্যামাজন এবং আলীএক্সপ্রেস দুটি হচ্ছে সেম টাইপ এর কোম্পানি, অনলাইন ভিত্তিক শপিংমল যেখানে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সমস্ত প্রোডাক্ট পাওয়া যায় এবং পুরো পৃথিবী থেকে লক্ষ কোটি মানুষ এই মার্কেট গুলো থেকে প্রতিনিয়ত শপিং করে। পাশাপাশি থিমফরেস্ট হচ্ছে একটি সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট মার্কেটপ্লেস।এখানে শুধুমাত্র সফটওয়্যার বিক্রি হয়। আপনি এই মার্কেটপ্লেসগুলোতে নিশ্চিন্তে জয়েন করে আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন এবং আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই মার্কেটপ্লেসগুলোর প্রোডাক্ট সেল করার মাধ্যমে আপনি ভালো মানের অ্যাফিলিয়েট সেল জেনারেট করতে পারেন, পাশাপাশি গুগল এডসেন্স তো আছেই।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

Betblog24.com