Best Blog 24 https://www.bestblog24.com/2021/08/internet-banking.html

ইন্টারনেট ব্যাংকিং কী? ইন্টারনেট ব্যাংকিং-এর সুবিধা-অসুবিধা।


“গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন নহে বিদ্যা, নহে ধন, হলে প্রয়োজন।” ছোটবেলায় এই বাক্যটি আমরা সবাই পড়েছি। নিজের গচ্ছিত সম্পদ যদি প্রয়োজনের সময় আপনি লেনদেন করতে নাই পারেন তাহলে সেই সম্পদের কোন মূল্য থাকে না। ব্যাংকে যে টাকাটা আপনি  গচ্ছিত রাখেন সেটি ব্যাংকের কোন ছুটির দিনে লেনদেন করাটা অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু হঠাৎ আপনার প্রয়োজন হলে সেই মুহূর্তে আপনি কি করবেন? এসব কথা বিবেচনা করেই বাংলাদেশ চালু করা হয়েছে অনলাইন ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবস্থা। 

ডিজিটাল এই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চালু করা ইন্টারনেট ব্যাংকিং বর্তমানে সকল মানুষের কাছে একটি আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। আপনারা অনেকেই হয়তোবা এখনো এই সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানেন না। তাই আজকে জেনে নেওয়া যাক ইন্টারনেট ব্যাংকিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাতে করে আপনিও এনালগ যুগ থেকে বের হয়ে ডিজিটাল যুগের লেনদেনে যুক্ত হতে পারেন। নিচে ইন্টারনেট ব্যাংকিং কি, বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর অবস্থা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর সুবিধা ও অসুবিধা এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর জন্য কি কি করা প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ 

ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং কি, ইন্টারনেট ব্যাংকিং কী, ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর অসুবিধা, অনলাইন ব্যাংকিং এর সুবিধা, অনলাইন ব্যাংকিং কি, অনলাইন ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং ও বাংলাদেশ, অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা ও অসুবিধা।

আরও পড়ুনঃ

ইন্টারনেট ব্যাংকিং কি?

সোজা কথায় বলতে গেলে আপনি যেই সকল লেনদেন ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে করেন সেগুলোই ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই করাকেই ইন্টারনেট ব্যাংকিং বলে। এই ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে আপনাকে একটি ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। আপনি ব্যাংকের সুরক্ষার সাইটে  গিয়ে ওই ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে সহজেই ব্যাংকের সাথে যে কোন প্রকার লেনদেন করতে পারবেন। ব্যাংকে টাকা পাঠানো, বিভিন্ন বিল পরিশোধ করাসহ, মোবাইল ব্যাংকিং এর সাহায্যে নগদ টাকা লেনদেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি যদি অনলাইনে তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে থাকেন তাহলে আপনি জেনে অবাক হবেন যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তাকে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী ব্যাংকগুলো কিউআর কোড সহ চোখ এবং আঙ্গুলের ছাপের সাহায্যে স্বতন্ত্র গ্রাহক যাচাই-বাছাই সহ আরো নানা আধুনিক প্রযুক্তি দিকে অগ্রসর হচ্ছে। 

বর্তমান বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর অবস্থা

ব্যাংকের লেনদেনের জন্য শুক্র-শনি ছুটির দিনে শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে কার বা ভালো লাগে? ২৪ ঘন্টায় ৩৬৫ দিনে যদি আপনাকে ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়া হয় তাহলে অবশ্যই আপনি সেটাকেই বেশি অগ্রাধিকার দেবেন। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যাংকিং আস্তে আস্তে অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।  ডিসেম্বরেই ২০ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে লেনদেন করেছে। যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। ১ কোটি ৫৪ লাখ ডেবিট ও ক্রেডিট লেনদেন হয়েছিল ১৩ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে বাংলাদেশের সব ব্যাংকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং চালু আছে নাকি? তাহলে জেনে খুশি হবেন বাংলাদেশের ১০ হাজার ১০৯  শাখার মধ্যে ৮ হাজার ৮৯৯ শাখায় ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু আছে। তো এই হিসেবে সরকারি ৯৯%, বেসরকারি ৯৭% এবং বিশেষায়িত সরকারি ২৫% ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর  সেবা চালু করেছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর সবগুলো শাখায় ইন্টারনেট ব্যাংকিং চালু আছে। তবে এখনো অনেক মানুষ এই সেবাটি না জানার বা বুঝার কারণে এর গ্রাহক সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল) ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা ৬০ হাজার। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে গ্রাহক সংখ্যা ২৫ হাজার। ব্র্যাক ব্যাংক  ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর গ্রাহক সংখ্যা তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। এদের গ্রাহক প্রায়  ৯০ হাজার জন। তবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এ সবচেয়ে বেশি সাফল্যতা পেয়েছে সিটি ব্যাংক। এদের গ্রাহক সংখ্যা আড়াই লাখ। বাকি ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক সংখ্যা  তুলনামূলকভাবে যথেষ্ট কম। 

ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর সুবিধা

আপনি যদি কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা পাড়াগাঁয়ে থাকেন অথবা অনেক ব্যস্ত থাকার কারণে ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে লেনদেন করার সময় না থাকে তাহলে ইন্টারনেট ব্যাংকিং আপনার জন্য সবচেয়ে সহজ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় পন্থা। এখন আপনি ভাবতে পারেন ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর সাহায্যে আমি কি কি করতে পারব? ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর সুবিধা হলঃ

  • আপনি চাইলেই আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংক একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন।
  • ইউটিলিটি  বিল পেমেন্ট করতে পারবেন।
  • QR  পেমেন্ট করতে পারবেন।
  • আপনার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনও স্থান থেকে আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন। ট্রানজেকশনের জন্য আপনার লাইনে দাঁড়াতে হবে না। সহজ এবং সময় বাঁচিয়ে আপনি ট্রানজেকশন করতে পারবেন। 
  •  বিকাশে আপনি ফান্ড টান্সফার করতে পারবেন। 
  •  চেক বুকের জন্য অনুরোধ, স্ট্যাটাস এবং স্টপ পেমেন্ট করতে পারবেন।
  • ক্রেডিট কার্ড সার্ভিস এবং বিল (বিদ্যুৎ, পানি, স্কুলের, ক্রেডিট কার্ডের, বকেয়া দেনা)  প্রদান করতে পারবেন। 
  • লেনদেনের তথ্য দেখতে পারবেন অর্থাৎ আপনি যে কোন সময় আপনার অ্যাকাউন্টের যেকোনো তথ্য দেখতে পারবেন। ব্যালেন্স চেক করতে পারবেন বিনামূল্যে। এতে আপনার টাকা চুরির ঝুঁকিও থাকবে না।
  • ফিক্সড ডিপোজিট এবং স্কিম একাউন্ট খোলা এবং বন্ধ করতে পারবেন। 
  • কিছু কিছু ব্যাংক ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার জন্য অল্প কিছু টাকা নিলেও অধিকাংশ ব্যাংক ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা ফ্রিতে দিয়ে থাকে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর অসুবিধা

  •  ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর কিছু অসুবিধা রয়েছে। যথাঃ 
  • যেহেতু এটি ইন্টারনেটভিত্তিক সেহেতু তথ্য চুরির সম্ভাবনা থাকে।
  • এখনো সব ব্যাংকে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে যার ফলে একাউন্ট ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। 
  • ইন্টারনেটের কোন সমস্যা হলে ট্রানজেকশনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

 যদিও এইগুলো খুবই সীমিত এবং আশা করা যায় অতি দ্রুত এই সমস্যাগুলোর সমাধান করে ফেলা      হবে। 

ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর জন্য কি কি করা প্রয়োজন 

ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর জন্য আপনার খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না।  আপনি আপনার মোবাইল ফোনের সাহায্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং করতে পারবেন। বিভিন্ন ব্যাংক এর জন্য বিভিন্ন অ্যাপস চালু করা। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর জন্য আপনার কি কি করা প্রয়োজন সেটা নিয়ে সাধারণ কিছু তথ্যঃ  

  • প্রথমেই আপনাকে আপনার কাঙ্খিত ব্যাংকটির অ্যাপ আপনার মোবাইলে ডাউনলোড করতে হবে। যেমন রূপালী ব্যাংকের জন্য রূপালী ব্যাংক শিওর ক্যাশ অ্যাপ, ইসলামী ব্যাংকের জন্য আইবিবিএল পোর্টাল ইসলামী ব্যাংক ইত্যাদি। এছাড়াও অনেক ব্যাংকে আপনাকে ব্যাংকিং শাখায় গিয়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করে আসতে হবে।  
  • স্ব স্ব ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং সাইটে ঢুকে আপনার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট করতে হবে। 
  • আপনার ব্যাংকের ডিজিট নাম্বার আইডি নাম্বার প্রদান করে ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড ও ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে আপনি আপনার অ্যাকাউন্টটি মোবাইলে চালু করতে পারবেন। তবে অনেক ব্যাংকিংয়ে রেজিস্ট্রেশন করার সময় কিছু অতিরিক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এক্ষেত্রে আপনি ওই ব্যাংকের ওয়েবসাইটে গিয়ে বিস্তারিত জেনে কাজ করতে পারবেন। তবে নিজের একাউন্ট সব সময় নিজেই সেটআপ করার চেষ্টা করবেন। কারণ আপনার একাউন্টে আপনার সকল তথ্য দেওয়া থাকবে। 

আপনার প্রদানকৃত পিন নাম্বারটি যদি ভুলে যান সে ক্ষেত্রে অবশ্যই স্ব স্ব ব্যাংকে যোগাযোগ করবেন। 

তাহলে বুঝতেই পারছেন পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সময়ে লেনদেন করার এই সুবিধা আপনার জীবনকে আরো বেশি সহজ করে তুলেছে। এখন আর ছুটির দিনগুলোতে অপেক্ষায় বসে না থেকে ঘরে বসেই নিজের গচ্ছিত সম্পদ ব্যবহার করতে পারবেন। এতো সুবিধার পরেও কেন তাহলে অযথা সময় নষ্ট করে আর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন? 


Tags: ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং কি, ইন্টারনেট ব্যাংকিং কী, ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর অসুবিধা, অনলাইন ব্যাংকিং এর সুবিধা, অনলাইন ব্যাংকিং কি, অনলাইন ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং ও বাংলাদেশ, অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা ও অসুবিধা।


পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?