ই- সিম কি? ই সিম এর সুবিধা ও অসুবিধা ২০২২

হাতে স্মার্টফোন থাকুক বা সাধারণ কোনো ফোন, সিমকার্ড তো সবাই ব্যবহার করি তাই না? আমরা সবাই সিম কার্ড হিসেবে প্লাস্টিকের চারকোনা ছোট্ট একটি বস্তুকে চিনলেও টেকনোলজির কল্যাণে এ সিম কার্ডের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। এখন অনেকেই রয়েছেন সাধারণ সিমকার্ডের বদলে ই সিম কার্ড ব্যবহার করছেন। তবে অনেকেই এই ই- সিম কি সে সম্পর্কে জানেননা। তাই আজকের লেখায় আমি ই- সিম কি, ই সিম মানে কি, বাংলাদেশে ই- সিম সাপোর্টেড মোবাইল, ই সিম এর সুবিধা ও অসুবিধা, ই সিম ব্যবহার করার নিয়ম, E SIM Price in Bangladesh, ই সিম গ্রামীণফোন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করবো। 

 ই-সিম-কি-এর-সুবিধা-ও-অসুবিধা

ই-সিম-কি-এর-সুবিধা-ও-অসুবিধা

 

সিম কার্ড কাকে বলে? 

যদি ই -সিম কি, ই সিম ব্যবহার করার নিয়ম, ই সিম এর সুবিধা ও অসুবিধা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে আপনাদেরকে শুরুতেই যে বিষয়টি জানতে হবে সেটি হল সিমকার্ড আসলে কাকে বলে। খুব সহজ ভাষায় সিম কার্ড হচ্ছে গোল্ডেন কালার এর সার্কিট বিশিষ্ট ছোট একটি চার কোনা কার্ড। 

এ সিম কার্ড গুলোর প্রতিটির এক একটি ইউনিক নাম্বার থাকে যেটি বিভিন্ন সিমকার্ড অপারেটর, যেমনঃ গ্রামীণফোন, রবি, টেলিটক, এয়ারটেল প্রদান করে। এই সিম কার্ডের মাধ্যমেই আমরা সাধারণত আমাদের ফোনের প্রয়োজনীয় কন্টাক্ট সেভ করে রাখি, মানুষজনকে কল করি, মেসেজ করি এমনকি সিম কার্ডের মাধ্যমে মোবাইল ডাটা পারচেজ করে ইন্টারনেট ব্রাউজ করি। আশা করি সবার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। 

ই -সিম কি? 

আমাদের ই সিম এর সুবিধা ও অসুবিধা যেমন জানতে হবে, তেমনি ই সিম ব্যবহার করার নিয়ম জানাও গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই আসা যাক ই -সিম কি সে সম্পর্কিত আলোচনা নিয়ে। সত্যি বলতে কিছু বছর আগেও ই -সিম কি সেটি মানুষ জানতোনা। বাংলাদেশে ই সিম গ্রামীণফোন সবার আগে নিয়ে এসেছে। তাই বর্তমানে বাংলাদেশে ই -সিম অনেকেই তাদের মোবাইলে ব্যাবহার করছেন। 

ই -সিম কি সে সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই যেটি বলতে হয় এটি হলো ট্রেডিশনাল সিমকার্ড, অর্থাৎ যে চার কোনা সিমকার্ড আমরা দেখে থাকি সেটির আধুনিক সংস্করণ। এটি হচ্ছে এমন এক ধরনের সিম কার্ড, যেটির কোন বাহ্যিক আকৃতি নেই। কেননা এই সিম কার্ডের চিপ মোবাইলের সাথে বিল্ট ইন ভাবে যুক্ত অবস্থায় থাকে। আশা করি ই সিম মানে কি সেটি সম্পর্কে সবাই বুঝতে পেরেছেন। 

সাধারণ সিমের সাথে ই সিমের মূল পার্থক্য কি? 

ই- সিম কি সে সম্পর্কে জানানোর পর এবার আপনাদের সবার মনে ঘুরতে থাকা একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নেই। সেটি হচ্ছে সাধারণ সিমের সাথে ই সিমের মূল পার্থক্য কি। আমরা ট্রেডিশনাল যে সিম কার্ড গুলো দেখে থাকি সেগুলো এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ট্রানস্ফার করে ব্যবহার করা গেলেও ই সিমের ক্ষেত্রে সেটি করা যায় না। 

ই সিম মোবাইল ফোনে ব্যবহার করা গেলেও সব ফোনে ব্যবহার করতে পারবেননা। কারণ এই সিম ব্যবহার করতে চাইলে ই সিম সাপোর্ট মোবাইল প্রয়োজন হয়। আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন সাধারণ সিমের চেয়ে ই সিম কোন দিক গুলো দিয়ে আলাদা। 

কোনগুলো ই সিম সাপোর্টেড মোবাইল? 

যেহেতু ই সিমের চিপ বিভিন্ন মোবাইল ফোনের সাথে যুক্ত অবস্থায় থাকে, এ কারণে সব মোবাইলকে ই সিম সাপোর্টেড মোবাইল বলা যাবে না। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানি ই সিম মোবাইল ফোনের মডেল নিয়ে এসেছে গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে। চলুন জেনে নেই কোন কোন মোবাইলে ই-সিম সাপোর্ট করে।

অ্যাপল স্মার্টফোন

শুরুতেই জানা যাক সবার পছন্দের মোবাইল ব্র্যান্ড অ্যাপল আইফোনগুলোর মধ্যে কোনগুলো ই সিম সাপোর্টেড মোবাইল। আইফোন সিরিজগুলোর মধ্যে ১২ ও ১২ সিরিজের ফোনগুলো ই সিম সাপোর্ট করে। এছাড়াও ১০ আর ও ১০ এস মডেলেও ই সিম ব্যবহার করার নিয়ম জেনে ই সিম ইউজ করতে পারবেন।

অ্যাপল স্মার্টওয়াচ

যদি আপনি স্মার্টওয়াচ ইউজার হয়ে থাকেন, এবং ই-সিম কি, ই সিমের সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন, তাহলে আপনার জন্য সুখবর হিসেবে বলতে পারি অ্যাপলের স্মার্টওয়াচগুলো তো কিন্তু ই সিম ব্যবহারের সুযোগ থাকছে।অ্যাপল স্মার্টওয়াচের ৩,৪,৫ এবং ৬ সিরিজে চাইলে ই সিম ব্যবহার করা যায়।

গুগল পিক্সেল

আইফোনের পাশাপাশি গুগলের পিক্সেল সিরিজের ফোন গুলো কিন্তু এখন গ্রাহকদের চাহিদার শীর্ষে। গুগলের পিক্সেল সিরিজের মধ্যে যে মডেলগুলো ই সিম সাপোর্টেড মোবাইল সেগুলো হচ্ছে পিক্সেল ৩,৪,৫ ও ৬। 

স্যামসাং 

বলুনতো, এন্ড্রয়েড ফোনের কোম্পানি গুলোর মধ্যে কোনটি  সবাই খুব পছন্দ করে? ঠিক ধরেছেন!আমি স্যামসাং ব্র্যান্ড টির কথা বলছি। যদি চান স্যামসাং ব্র্যান্ডের কোন একটি মোবাইল কিনতে, যেটি ই সিম সাপোর্টেড মোবাইল, তাহলে আপনাকে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস ২০ অথবা এস ২১ সিরিজের মডেল পারচেজ করতে যাবে। এছাড়াও গ্যালাক্সি z ফোল্ড ৩ ৫জি, গ্যালাক্সি z ফোল্ড ২ ৫জি, স্যামসাং ফোল্ড LTE ইত্যাদি ডিভাইসও ই সিম সাপোর্ট করে। 

যদি ই সিম সাপোর্টেড মোবাইল ইউজ করতে চান, তাহলে এই মডেলগুলো থেকে যেকোনো একটি বেছে নিন। তবে পরামর্শ থাকবে মোবাইল কেনার আগে ই সিম এর সুবিধা ও অসুবিধা ভালোমতো জেনে নেয়ার। 

আরও পড়ুনঃ এক সিম থেকে অন্য সিমে এমবি ট্রান্সফার করার নিয়ম ২০২২

ই সিম ব্যবহার করার নিয়ম

বাংলাদেশে কোন কোন অপারেটারের ই-সিম পাওয়া যায়, অর্থাৎ বাংলাদেশে ই- সিম এর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আপনাদের জানাতে চাই। আমি আগেই বলেছি সবার আগে বাংলাদেশে ই-সিম নিয়ে এসেছে সবার পছন্দের অপারেটর গ্রামীণফোন। ই সিম গ্রামীণফোন এই বছরের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। বর্তমানে শুধু এই কোম্পানিটি সবাইকে ই সিম ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। 

তাই Robi e SIM বা Banglalink e SIM আপাতত ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই যারা এই সিম ব্যবহার করতে চান, তাদেরকে একটি ই সিম গ্রামীণফোন সেন্টার থেকে পারচেজ করতে হবে এবং গ্রামীণফোনের ই সিম ব্যবহার করার নিয়ম জেনে সেটি ব্যবহার করতে হবে। 

ই সিম গ্রামীণফোন 

বাংলাদেশে ই-সিম সম্পর্কে জানার পর এবার আসা যাক জিপি ই সিম ব্যবহার করার নিয়ম সম্পর্কে। গ্রামীনফোনের সিম গুলোর মধ্যে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড এবং মাইগ্রেশন তিন ধরনের সিমের ক্ষেত্রেই আপনারা ই সিম ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার মোবাইলটি ই সিম সাপোর্টেড মোবাইল হতে হবে। 

গ্রামীনফোনের ই সিম ব্যবহার করার নিয়ম হলো আপনাকে শুরুতেই অনুমোদিত গ্রামীণফোন সেন্টার থেকে একটি ই সিম পারচেজ করতে হবে। নতুন ই সিম পারচেজ করার পর সিমের সমস্ত কাগজের সাথে আপনি আপনার ই সিমের কিউআর কোড দেয়া রয়েছে এমন একটি পেপার পাবেন। সেই কোডটি স্ক্যান করুন। তারপর সেখানে দেয়া ডিরেকশন অনুযায়ী ফোনে ই সিম অ্যাকটিভেট করে নিন ও ব্যবহার করা শুরু করুন। 

গ্রামীণফোন ই সিমের দাম কত? 

E SIM price in Bangladesh, এই প্রশ্নটি সবাই করে থাকেন। গ্রামীনফোনের নতুন একটি ই সিম আপনারা পেয়ে যাবেন মাত্র ২০০ টাকায়। এক্ষেত্রে জেনে রাখা ভালো আপনি চাইলে আপনার সাধারন সিম কার্ডটিকে ই সিমে কনভার্ট করে তারপর ব্যবহার করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে খরচ করতে হবে মাত্র ৯৯ টাকা। তবে আপনি যদি গ্রামীণফোনের স্টার কাস্টমার হয়ে থাকেন তাহলে সম্পূর্ণ ফ্রি-তে আপনি আপনার সাধারন গ্রামীণফোন সিম কে ই সিমে কনভার্ট করতে পারবেন।

ই সিম এর সুবিধা ও অসুবিধা 

ই -সিম কি, ই সিম ব্যবহার করার নিয়ম ও ই সিমের দাম কত – সবকিছুই তো জানালাম। চলুন এবার জেনে আসা যাক ই সিম এর সুবিধা ও অসুবিধা কি কি সে সম্পর্কে।

ই সিমের সুবিধা 

ই সিমের সুবিধা হিসেবে প্রথমেই আমি বলবো এই সিমে আপনারা একইসাথে পাঁচটি অপারেটরের সিমের ডাটা ভার্চুয়ালি সংরক্ষণ করতে পারবেন। তাই আপনি যদি একটি সিম স্যুইচ করে অন্য একটি সিম ব্যবহার করতে চান, তাহলে আপনার ফোনে নতুন করে সিম ইনসার্ট করার কোন প্রয়োজন নেই। বরং এই সিমের মাধ্যমে আপনি সহজেই এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরের সিমে সুইচ করতে পারবেন।

ই সিমের আরেকটি অন্যতম সুবিধা হচ্ছে  আপনারা কিন্তু চাইলে এই সিমের পাশাপাশি ফোনে আপনাদের সাধারণ সিমও ব্যবহার করতে পারবেন। যারা ফোনে একাধিক সিম ব্যবহার করতে চান তাদের জন্য এই  সুবিধাটি খুবই কাজে আসে। 

ই সিমের সিকিউরিটি সাধারণ সিমের চাইতে বেশী এবং যেহেতু এই সিম কার্ড তৈরিতে প্লাস্টিকের ব্যবহার নেই, তাই এই সিম কার্ড ব্যবহার পরিবেশবান্ধবও বটে। 

ই সিমের সুবিধা হিসেবে সবার শেষে আমি বলতে চাই এই সিমটি সাধারণ সিমের মত পানিতে বা ধুলায় পড়ে নষ্ট হওয়ার কোন চান্স নেই।  পাশাপাশি এই সিমের দাম বেশ কম।  তাই চাইলে এ সিম ব্যবহার করে দেখতে পারেন। 

ই সিমের অসুবিধা 

এবার আসা যাক ই সিমের কিছু অসুবিধা নিয়ে। এই ধরণের সিমের অসুবিধা হিসেবে আমি প্রথমেই বলবো  যদি কোন কারণে আপনার মোবাইল ফোনটি নষ্ট হয়ে যায় অথবা হারিয়ে যায় সেক্ষেত্রে কিন্তু ই সিমে থাকা ডাটা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন না। পাশাপাশি যদি কোন কারনে ফোন রিসেট করতে হয় তাহলে ই সিমে থাকা সমস্ত ডাটা ডিলিট হয়ে যাবে।  তখন আপনি সিমের সেভ করে রাখা সমস্ত কন্টাক্ট নাম্বারও হারিয়ে ফেলবেন।  

শেষ কথা

যেহেতু ই সিমের প্রযুক্তিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখনো নতুন, তাই অনেকেই এখনও এটির সাথে অভ্যস্ত হতে পারেননি। অনেকেই রয়েছেন যারা ই -সিম কি সেটি না জেনেই এ সিম কিনে ফেলেন এবং পরে বিভিন্ন অসুবিধায় পড়েন।  

এটি যেন না হয় সেজন্য আমি সবাইকে বলবো আগে ই সিম মানে কি, ই সিম এর সুবিধা ও অসুবিধা এবং ই সিম ব্যবহার করার নিয়ম সম্পর্কে ভালোমতো জানুন এবং তারপর যদি ভালো লাগে তাহলেই এই সিম পারচেজ করুন। যদি আজকের এই লেখা টি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে নিজের পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেননা। 

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top